বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের অব্যবহৃত ঢালকে কাজে লাগিয়ে দুই কিলোমিটারজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে লাউ ও সবজি চাষ করে দারুণ সাফল্যের মুখ দেখেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা। দিগন্তজোড়া মাচায় সারি সারি লাউ ঝুলে থাকার এই অভিনব দৃশ্য এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ২০২৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কার করার পর থেকেই এর ঢালে সবজি চাষ শুরু করেন স্থানীয়রা। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন, জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুল হাকিমসহ অনেকে যৌথ ও এককভাবে বাঁশ ও জিআই তারের মাচা তৈরি করে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউ চাষ করেছেন।
কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, এ বছর তার প্রায় ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৩১ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। ফলন ভালো থাকলে এবার দুই লাখ টাকার মতো লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি। এছাড়া কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়ি থেকে পাইকাররা পিকআপ ভ্যানে করে এসে খেত থেকেই প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। লাউয়ের পাশাপাশি কেউ কেউ কলা, বাঁশ ও করলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষও করছেন।
চরের তীব্র দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির মধ্যেও পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ফসল বাঁচিয়ে রেখেছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাঁধের ঢালে এই চাষাবাদের ফলে একদিকে যেমন ভূমিহীন মানুষের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কম দামে তা বাজারে মেলায় স্থানীয়দের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক জানান, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চাষাবাদ বেশ উপকারী হওয়ায় এতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাঁধ ও সড়কের ঢালে চাষাবাদ করে ভূমিহীন কৃষকদের লাভবান হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাদের সবসময় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!