কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, দীর্ঘদিনের লোকসান ও ঋণাত্মক নিট সম্পদ মূল্য—সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। এর মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে কোম্পানিটি কোনো জবাব দেয়নি। সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে ডিএসই।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২ আগস্ট তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারদর ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। ২৩ আগস্ট লেনদেন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৮২ শতাংশ। ডিএসই জানায়, অস্বাভাবিক এই দরবৃদ্ধির পেছনে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছিল ডিএসই। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এর আগে তুং হাই নিটিংয়ের কারখানা পরিদর্শন করে ডিএসইর একটি বিশেষ পরিদর্শক দল। সরেজমিনে গিয়ে তারা কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ দেখতে পায়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এসব যন্ত্রপাতিতে মরিচা ও ময়লার স্তর জমে থাকার কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। নিয়ম অনুযায়ী, কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো বাধ্যতামূলক। তবে তুং হাই নিটিং এ বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রকাশ করেনি।
উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও বেশ দুর্বল। টানা লোকসানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে তুং হাই নিটিং। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক ৬ টাকা ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির মোট সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। কয়েক বছর ধরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশও দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং মোট শেয়ার ১০ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বাকি ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!