জুলাই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে যুক্ত হন রিকশাচালক, হকার, শ্রমিক, দিনমজুর ও পরিবহনকর্মীসহ খেটে খাওয়া আপামর জনতা। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আন্দোলনের দিনগুলোতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের নানা ভূমিকা দেখা যায়। কেউ শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানান, কেউ আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন, আবার কেউ রাজপথে মিছিলে অংশ নেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে রিকশাচালক সুজনের রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে স্যালুট জানানোর দৃশ্যটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, যা শ্রমজীবী মানুষের সংহতির প্রতীকে পরিণত হয়। এ ছাড়া হকারদের আবেগঘন স্লোগান ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের উপস্থিতি আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি আরও প্রশস্ত করে।

রাজপথে সংহতির পাশাপাশি এই আন্দোলনে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে শ্রমজীবী মানুষকে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের একটি বড় অংশ ছিলেন শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। রামপুরার ইসমাইল, মালিবাগের কামাল মিয়া কিংবা নরসিংদীর আইনুদ্দিনের মতো বহু শ্রমজীবী মানুষ সংঘাতের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শহিদদের প্রায় ৩৫ শতাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত মুখ ‘স্যালুট সুজন’ খ্যাত রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, মানুষের নিরাপত্তা এবং নিরস্ত্র মানুষ হত্যায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।