মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বগুড়ায় গত কয়েকদিন ধরে চলছে থেমে থেমে বৃষ্টি। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরের পর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে শহরের জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। 

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তবে এই বৈরী আবহাওয়াতেও জীবিকার তাগিদে রিকশার প্যাডেল ঘোরাতে বাধ্য হচ্ছেন ৫৫ বছর বয়সী রিকশাচালক মো. গেদা মিয়া।

বগুড়া শহরের সাতমাথায় রিকশার সিটে বসে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা গেদা মিয়ার চোখেমুখে ছিল ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি বলেন, “শরীর দুর্বল, তাই বসে আছি। বৃষ্টিতে ভিজলে পরের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ব। রিকশায় পলিথিন নেই, তাই যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না। ভাড়া কম চেয়েও বসে থাকতে হচ্ছে।”

গেদা মিয়ার জীবন সংগ্রামের গল্পটা বেশ দীর্ঘ। শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের চাচাইতারা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। অভাবের সংসারে দুই বছর আগে স্ত্রী অভিমান করে চলে গেছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন আলাদা থাকেন, অন্যজন অটোরিকশা চালালেও বাবার সংসারে তেমন সহযোগিতা করেন না। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, যারা ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। এখন নিজের ও সংসারের দায়ভার একা কাঁধেই বইছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মানুষটি।

গেদা মিয়া বলেন, “ঘরে বসে থাকলে তো পেট চলবে না। সপ্তাহে সপ্তাহে লোনের কিস্তি দিতে হয়। সকাল থেকে একটা রুটি আর একটা কলা খেয়েছি। শরীরটা খুব দুর্বল লাগছে, কিন্তু উপায় নেই।”

বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় গেদা মিয়ার মতো আরও অনেক রিকশাচালককে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে অথবা পাতলা রেইনকোট গায়ে দিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে গণপরিবহন সংকটের সময় এসব রিকশাচালকরাই সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছেন। অথচ এই ভরসার আড়ালে লুকিয়ে আছে অসুস্থতা, ক্ষুধা, ঋণের বোঝা আর পরিবার বাঁচিয়ে রাখার প্রতিদিনের এক অসম যুদ্ধ।

বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন গেদা মিয়ার মতো মানুষের জীবনে নতুন এক পরীক্ষার নাম। তবুও থামছে না তাদের জীবন। কারণ দিনের শেষে রিকশার চাকার প্রতিটি ঘূর্ণনের ওপরই নির্ভর করছে তাদের পরিবারের অন্ন আর বেঁচে থাকার স্বপ্ন।