বরিশালের আগৈলঝাড়ায় থানা হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানা প্রাঙ্গণে এই সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

 পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. রিয়াজ ফকিরকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাতে হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই লোহার গেটে মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। থানা হাজতের সিসিটিভি ফুটেজে এ দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজের দীর্ঘ সময় জ্ঞান না ফেরায় এলাকায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই খবরে উত্তেজিত হয়ে শতাধিক গ্রামবাসী মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিক্ষুব্ধরা ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন— এএসআই আব্দুল হালিম (গুরুতর আহত), কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগমসহ অন্তত ছয়জন।

আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রিয়াজের মা নাছরিন বেগমের অভিযোগ, পুলিশ বিনা অপরাধে তার ছেলেকে আটক করে মারধর করেছে। অন্যদিকে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেছেন। তিনি বলেন, “পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা চালিয়ে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।