রাজধানীর উত্তরখানের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম সড়ক ‘শাহ্ কবির (রহ.) মাজার রোড’। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা, চাকুরিজীবী ও শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে তীব্র যানজট এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাগামহীন ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবন সম্পূর্ণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও স্বল্প আয়ের মানুষ প্রতিদিন চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জনসাধারণের ওপর চলমান এই
নীরব জুলুম আর সহ্য
করতে না পেরে, কোনো
ধরণের রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা
ছাড়াই এলাকার একজন সচেতন
নাগরিক হিসেবে একা রাস্তায়
দাঁড়িয়ে এই অন্যায়ের তীব্র
প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক ও সমাজকর্মী
মোঃ জাকির হোসেন সাগর।
তার এই ব্যতিক্রমী ও
সাহসী প্রতিবাদ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ উত্তরখানের সাধারণ মানুষের মাঝে
ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে
জানা গেছে, শাহ্ কবির
(রহ.) মাজার রোডের যানজট
এখন নিত্যদিনের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের
ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যানচলাচল,
যত্রতত্র অটোরিকশা পার্কিং এবং রাস্তার দুই পাশে ভ্যানে
করে দোকান বসানোর কারণে
দিনভর স্থবির হয়ে থাকে
এই এলাকা। তবে যানজটের
চেয়েও যাত্রীদের বেশি ক্ষোভের কারণ
হয়ে দাঁড়িয়েছে অটোরিকশা চালকদের ‘ভাড়া নৈরাজ্য’।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কোনো
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না
করে অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের পকেট
কাটছে প্রতিদিন। ভাড়ার ক্ষেত্রে চরম
বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে
তারা জানান, উত্তরখানেরই পাশের
অন্যান্য সমদূরত্বের রাস্তায় যেখানে অটোরিকশা ভাড়া
মাত্র ১০ টাকা, সেখানে
এই শাহ্ কবির মাজার
রোডে চলাচলের জন্য যাত্রীদের কাছ
থেকে জোরপূর্বক দ্বিগুণ অর্থাৎ ২০ টাকা
ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মাজার রোডের এই অযৌক্তিক
ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি
নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের
সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ
ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কিন্তু
কোনো কার্যকর কর্তৃপক্ষ না থাকায় চালকদের
এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে
আছেন সবাই।
রাস্তায় একাকী প্ল্যাকার্ড হাতে
দাঁড়িয়ে প্রতিবাদকালে শিক্ষক মোঃ জাকির
হোসেন সাগর আবেগঘন কণ্ঠে
বলেন, "আমি কোনো রাজনৈতিক
নেতা নই, আমি আপনাদেরই
ঘরের সন্তান, আপনাদেরই ভাই। প্রতিদিন রাস্তায়
বের হলে সাধারণ মানুষের
যে কষ্ট, যে কান্না
ও ক্ষোভ আমি দেখি—
নিজের ভেতরের সেই নাগরিক
তাগিদ থেকেই আজ আমি
একা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। পাশের
রাস্তায় ১০ টাকা ভাড়া
হলে, এই রাস্তায় কেন
২০ টাকা দিতে হবে?
এই তীব্র ভোগান্তি ও
নীরব জুলুম কোনোভাবেই আর
মেনে নেওয়া যায় না।
আমাদের এখনই সোচ্চার হতে
হবে।"
মাজার রোডের এই দীর্ঘমেয়াদী
দুর্ভোগ ও সিন্ডিকেটের হাত
থেকে স্থায়ী মুক্তির জন্য
তিনি ঢাকা-১৮ আসনের
মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন
মহোদয়ের জরুরি ও বিনীত
দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তিনি সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে
বলেন, "মাননীয় সংসদ সদস্যের একটি
শক্তিশালী, কঠোর
ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে শাহ্
কবির
(রহ.) মাজার রোডকে
এই তীব্র
যানজট থেকে
মুক্ত করতে।
প্রশাসনের মাধ্যমে অটোরিকশার জন্য একটি
নির্দিষ্ট ও ন্যায্য ভাড়ার
তালিকা নির্ধারণ করে সড়কটিকে সচল
করলে তবেই
উত্তরখানবাসী দীর্ঘদিনের এই জিম্মিদশা থেকে
স্বস্তি পাবে।"
একই সাথে তিনি উত্তরখানের
সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান
জানিয়ে বলেন, কোনো দল-মত বা রাজনৈতিক
ভেদাভেদ না রেখে সাধারণ
মানুষের মৌলিক অধিকার ও
ন্যায্যতার পক্ষে সবাইকে নিজ
নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে
হবে।
এদিকে একজন শিক্ষকের এভাবে
একা রাস্তায় দাঁড়িয়ে জনস্বার্থে প্রতিবাদ করার ছবি ও
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর
তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপকভাবে এই উদ্যোগকে স্বাগত
জানিয়েছেন। নেটিজেনরা কমেন্টে লিখছেন, সাগর স্যারের এই
একক প্রতিবাদ আসলে পুরো উত্তরখানবাসীর
মনের অবরুদ্ধ কথা।
উত্তরখানের সচেতন মহল মনে
করছেন, শাহ্ কবির (রহ.)
মাজার রোডের যানজট নিরসন,
রাস্তার দুই পাশে অবৈধ ভ্যানের করে দোকান উচ্ছেদ এবং অটোরিকশার দ্বিগুণ
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবিলম্বে
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ
আদালত পরিচালনা ও স্থায়ী ট্রাফিক
পুলিশ বক্স স্থাপন করা
প্রয়োজন। ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা এই
বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি
কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের
দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ
কামনা করছেন।