যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (২৮ জুন) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার এই হামলা দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, "সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত ও সামরিক নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারেনি। নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর ওপর আমাদের গুলি চালানো অন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্যও একটা স্পষ্ট বার্তা— কোন পথ দিয়ে তাদের নিরাপদে চলাচল করতে হবে।"
বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর পরিণতি নিয়ে সতর্ক করে আরও বলা হয়, "এই অঞ্চলে অবস্থান করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার ফল ভালো হবে না। আগামী দিনগুলোতে তারা তীব্র নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।"
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলো, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।