বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার এসেই রূপকথা তৈরি করেছে আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো পরাশক্তিদের স্তব্ধ করে, কঠিন গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে নকআউট অর্থাৎ শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা। তবে এবার তাদের সামনে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ—প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে কেপ ভার্দে। একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্পেন উরুগুয়েকে পরাজিত করায়, রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত হয় আফ্রিকার এই দলটির। বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই এমন অভাবনীয় সাফল্য কেপ ভার্দেকে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দিয়েছে।
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি। অথচ মাঠের পারফরম্যান্সে তারা টেক্কা দিয়েছে জায়ান্টদের। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচ ড্র করে অপরাজিত থেকে নকআউটে উঠে এসেছে তারা। তাদের এই লড়াকু ফুটবল ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাস গড়ার পর উচ্ছ্বসিত কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমীহ করলেও ছেড়ে কথা না বলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন:
"আমরা বিশ্বের মঞ্চে আমাদের দেশকে পরিচিত করাতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। এবার আমাদের সামনে আর্জেন্টিনা। তারা কতটা শক্তিশালী, সেটা আমরা খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত।"
চলতি টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের এই রূপকথার পেছনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। এছাড়া মাঝমাঠে ডেরয় দুয়ার্তে ও কেভিন পিনা এবং আক্রমণভাগে ফরোয়ার্ড নুনো দা কস্তার লড়াকু পারফরম্যান্স পুরো ফুটবলবিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগ রুখতে আবারও এই তারকাদের ওপরই ভরসা করবে দল।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ ও এঞ্জো ফার্নান্দেজদের নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনা দল রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। কাগজে-কলমে লিওনেল স্কালোনির দলই এই ম্যাচে নিরঙ্কুশ ফেবারিট। তবে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে কাউকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
আগামী ৩ জুলাই শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। শক্তির বিচারে আলবিসেলেস্তেরা অনেক এগিয়ে থাকলেও, অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে দেখিয়ে দিয়েছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে রূপকথাও কখনো কখনো বাস্তবে রূপ নেয়।