নাটোরের বড়াইগ্রামে সুপারির খোসা ছাড়ানোর কাজ এখন শত শত অসহায় নারীর উপার্জনের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলে উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ নারী ঘরে বসেই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলার আলীপুর, কেল্লা, নাদো-জোয়াড়ীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নারীরা এখন নিয়মিত এই কাজ করছেন। উদ্যোক্তারা নারীদের বাড়িতে কাঁচা সুপারি পৌঁছে দেন এবং খোসা ছাড়ানোর পর তা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। প্রতি কেজি সুপারির খোসা ছাড়ানোর জন্য ১০ থেকে ১২ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। একজন নারী দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি সুপারি প্রক্রিয়াজাত করে অনায়াসে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা আয় করছেন। মাস শেষে এই আয় তাদের সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
এই উদ্যোগের পথিকৃৎ তরুণ ব্যবসায়ী শামীম মোল্লা জানান, ২০১৯ সালে বরিশালে প্রথম এমন উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরে নিজ এলাকায় এটি চালু করেন। তার দেখাদেখি আরও ১০ জন ব্যবসায়ী এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত স্থানীয় সুপারি সংগ্রহ করা হয়, আর বাকি সময় পঞ্চগড়, ভোলা ও বরিশাল থেকে সুপারি আনা হয়।
ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীকে হারানো আলীপুর গ্রামের ফাতেমা বেগম (৬৫) বলেন, “আগে অন্যের কাছে হাত পাততে হতো। এখন নিজের উপার্জনে চলি, এটাই শান্তি।” একইভাবে রফেল বেগম ও তার মেয়ে একসঙ্গে কাজ করে সংসার সামলানোর পাশাপাশি কিছু অর্থ সঞ্চয়ও করছেন।
বড়াইগ্রাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. ডালিয়া পারভীন বলেন, “নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সংসারের কাজের পাশাপাশি এভাবে আয় করার সুযোগ তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ জানান, কৃষিভিত্তিক এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি পণ্যের বাজারজাতকরণকে সহজ করে তুলেছে। এছাড়া জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।