দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ৬০ দিন মেয়াদি অস্থায়ী সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর গোপন ১২টি শর্ত ফাঁস করে দিয়েছে।
চুক্তির মূল ধারাগুলো নিচে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে দেওয়া হলো:
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সব ধরনের বৈরী আচরণ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে।
আলোচনা চলাকালীন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখবে এবং কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে ফেলার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে এবং পরবর্তী পারমাণবিক চাহিদা নিয়ে আলোচনা চলবে। আলোচনা চলাকালীন ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না এবং ইরান যাতে তেল বিক্রি করতে পারে, সেজন্য সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর সব নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাতিল করা হবে।
সমঝোতা স্মারকটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফ্রিজ বা আটকে রাখা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেবে। যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপস্থিতিতে নৌ-চলাচল ও সামুদ্রিক সেবার নিয়মকানুন নির্ধারণ করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলাদা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।