নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন। জঘন্য এই ঘটনায় স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অপর এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই দম্পতি। গত বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগীর রাজমিস্ত্রি স্বামী কাজের তাগিদে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে লম্পট অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে দুই শিশুসন্তানের সামনেই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।
তিনি আরও জানান, লোমহর্ষক এই ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা ও মীমাংসার চেষ্টা চালান। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপ উপেক্ষা করে গত শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ জোরদার অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) ও তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)। তবে মামলার অপর এক আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তবে পরীক্ষা শেষ হলেও লোকলজ্জা আর নতুন করে হামলার ভয়ে তিনি গ্রামে বা নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, "এলাকার প্রভাবশালী লোকজন প্রথমে বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিয়েছিল। আমরা তা না মেনে মামলা করেছি, আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন এলাকায় ফিরে গেলে আসামিদের লোকজনের হাতে কোনো বড় বিপদে বা আক্রোশের মুখে পড়তে হয় কি না, সেই ভয়ে আছি। কোথায় যাব বুঝতে না পেরে হাসপাতালেই সপরিবারে অবস্থান করছি।" তিনি আরও জানান, দুই পরিবারের স্বজনদের অনেকেই এখনো এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জানেন না, ফলে লোকলজ্জার কারণে শ্বশুরবাড়ি বা বাবার বাড়িতেও আপাতত যেতে পারছেন না তারা।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "মামলা দায়েরের পর আমাদের টিম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দুই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক অপর আসামিকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি নিজ এলাকায় ফিরে যেতে চায়, তবে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মনে কোনো উদ্বেগ বা ভয় থাকলে সরাসরি আমাদের জানাতে পারেন; পুলিশ এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।"