আফগানিস্তানে বিক্ষোভ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে নতুন আইন পাস করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, বিক্ষোভ মূলত গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য, যেখানে ইসলামিক আইনে এর কোনো স্থান নেই।
২০২১ সালে বিদেশি সেনাদের হটিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর দেশটিকে ইসলামিক আমিরাত হিসেবে ঘোষণা করে তালেবান। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ দেখা না গেলেও গত মাসে সব ধরনের বিক্ষোভের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, তালেবান সরকার মূলত রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ ও দমন করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
মানবাধিকারের উদ্বেগের জবাব দিয়ে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সাফাই গেয়ে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ভিন্ন ভিন্ন শাসনব্যবস্থা বা গণতন্ত্রে বিক্ষোভের সুযোগ থাকে। কিন্তু ইসলামিক ব্যবস্থায় বিক্ষোভের কোনো স্থান নেই; বরং সাধারণ মানুষ চাইলে সরাসরি শাসকের কাছে গিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করতে পারেন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া রোধ হবে এবং ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুরের হাত থেকে রক্ষা পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত জুনে নারীদের অধিকার সংক্রান্ত একটি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকে দেশটিতে আর কোনো বড় আকারের বিক্ষোভের নজির নেই। এএফপির সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।