শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে থাকা ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার সাধারণ শেয়ার হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত ২৭ আগস্ট বিএসইসির পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) বাই ল’সের ১১.৬ ধারা অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে ‘ম্যাচড ট্রানজেকশন’-এর মাধ্যমে এই শেয়ারগুলো আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, শেখ জসিম উদ্দিন এবং ফারিয়া হোসাইনের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
গত কয়েক মাস ধরেই ডমিনেজ স্টিলের মালিকানা বদলের গুঞ্জন ও শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি বাজারের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল। কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি বা ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের বড় কোনো উন্নতি না থাকলেও এই খবরের ওপর ভিত্তি করে বিগত তিন মাসে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পায় প্রায় ১৩৩ শতাংশ। অথচ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নরসিংদীর একটি কারখানা দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং চালু থাকা অন্য কারখানাটিতেও ধারাবাহিক মন্দা চলছে। আর্থিক লোকসানের মুখে থাকা একটি কোম্পানির শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক ও টানা দরবৃদ্ধি নিয়ে ইতোমধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত ২৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশ্যে আসার আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এই সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অজানা রেখে একটি চক্র শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে ফায়দা লুটেছে কি না—তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালালেও কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বারবার কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না থাকার দাবি করা হয়েছিল। তথ্য গোপনের বা আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে।
বিএসইসির অনুমোদনের পর নির্ধারিত শেয়ারগুলো আকিজ রিসোর্সেস ও অন্যান্য ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে ডমিনেজ স্টিলের করপোরেট মালিকানা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তবে রুগ্ণ বা লোকসানি একটি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে এই মালিকানা বদলের আগে তৈরি হওয়া কারসাজি এবং তথneর গোপনীয়তা লঙ্ঘন নিয়ে বাজারের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় বিএসইসির আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কোম্পানির পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়ে দেওয়া হবে।