বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে গোল্ডেন ভিসার মাধ্যমে দুবাইয়ে প্রপার্টি বা সম্পত্তি কেনার অভিযোগে ৪৫৯ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ৯৭২টি সম্পত্তি অর্জনের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে ৭০ জনকে শনাক্ত করে এনবিআরকে চিঠি দেয় দুদক। পরবর্তীতে আরও ২০-২৫ জনের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। এনবিআর, বিএফআইইউ ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য যাচাই শেষে প্রায় ১০০ ব্যক্তির নথি উদ্ধারে দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল দুদক। তবে কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ে পদত্যাগসহ নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতায় সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, দেশ থেকে অর্থপাচার করে সাড়ে চারশো ব্যক্তির দুবাইয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগের নানা খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শুধু দেশীয় নথিপত্র দিয়ে অর্থপাচারের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন। সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, বেনিফিশিয়াল ওনার, ক্রয়মূল্য এবং দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য ইউএই কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সরেজমিন অনুসন্ধান অত্যন্ত জরুরি। নতুন কমিশন গঠিত হলেও একটি বিশেষ টিম দুবাই পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ’ এবং ইউরোপীয় সংগঠন ‘ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৫৯ জন বাংলাদেশির নামে দুবাইয়ে ক্রয় করা ৯৭২টি প্রপার্টির কাগজে-কলমে মূল্য ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে বেশ কিছু অভিজাত ভিলা ও ভবন রয়েছে। গত দুই বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজারে বিদেশি ক্রেতাদের তালিকায় বাংলাদেশিদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।