প্রারম্ভ: ইসলামে সূদ হারাম,এটি অত্যন্ত মারাত্মক কবিরা গুনাহ।তবে সুদকে হালাল বা বৈধ মনে করা কুফুরি,যা মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।
★সূদের পরিচয়: ‘রিবা’ অর্থ সূদ। ‘রিবা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অতিরিক্ত,
বর্ধিত। মূলধনের অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করাকে সূদ বলে।
মোটকথা বাকীতে কিংবা নগদে সমজাতীয় পণ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে মূল পণ্যের অতিরিক্ত যা কিছু গ্রহণ করা হয়,তাকে ইসলামী শরী‘আতে সূদ বলা হয়।
মুসলিম শরিফ এর-১৫৮৪-নং হাদিসে
রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন...
اَلذَّهَبُ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيْرُ بِالشَّعِيْرِ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مِثْلاً بِمِثْلٍ يَدًا بِيَدٍ فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى الآخِذُ وَالْمُعْطِى فِيْهِ سَوَاءٌ-
অনুবাদ:‘স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ,রৌপ্যের বদলে রৌপ্য,গমের বদলে গম,যবের বদলে যব,খেজুরের বদলে
খেজুর,লবণের বদলে লবণ সমান সমান হাতে হাতে নিবে। অতঃপর যে ব্যক্তি তাতে বেশী দিল বা বেশী চাইল,সে সূদে পতিত হ’ল। গ্রহীতা ও দাতা উভয়ে সমান’।
★সূদ হারাম দলীল: আল্লাহ বলেন...
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَافاً مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُواْ اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ-
অনুবাদ: ‘হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সূদ খেয়ো না। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তাতে তোমরা অবশ্যই সফলকাম হবে’ (আলে ইমরান ৩/১৩০)।
আল্লাহ বলেন...
يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوْا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِيْنَ-
অনুবাদ:‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের পাওনা যা বাকী রয়েছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা সত্যিকারের মুমিন হয়ে থাক’।
(বাক্বারাহ ২/২৭৮)।
বুখারী শরীফ এর-২৭৬৬-নং হাদিসে
রাসূলুল্লাহ (সা:)ইরশাদ করেন...
,دِرْهَمُ رِبا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلاَثِيْنَ زَنْيَةً.
অনুবাদ:‘সূদের একটি মাত্র দিরহাম যদি কেউ জেনেশুনে ভক্ষণ করে তাহ’লে তা হবে ছত্রিশবার ব্যভিচার করার চাইতেও জঘন্য’।
তিরমিযি শরীফ এর-৩৫৪১-নং হাদিসে
রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন...
,الرِّبَا سَبْعُونَ حُوبًا أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكَحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ.
অনুবাদ:‘সূদের পাপের ৭০টি স্তর রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হচ্ছে কোন ব্যক্তির নিজ মাতাকে বিবাহ করা’। অর্থাৎ তার সাথে ব্যভিচার করা।
সুতরাং...সূদের নাম পরিবর্তন করে মুনাফা,Interest প্রভৃতি যাই রাখা হোক না কেন সেটা জায়েয হয়ে যাবে না। অনুরূপভাবে সূদ গ্রহণের পদ্ধতি পরিবর্তন করলেও তা বৈধ হয়ে যাবে না। বরং সূদ যেটা,সেটা সূদই থাকবে। উল্লেখ্য,বর্তমানে প্রচলিত সূদী প্রথার অধিকাংশই জাহেলী যুগে চালু ছিল।
★এবার আসুন ড.ইউনুসের এর বিষয়ে... ড.ইউনুস,২অক্টোবর ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।
যার মাধ্যমে তিনি সূদি ব্যবহার শুরু করেন,হাজারো মানুষ সূদি লেনদেনে যুক্ত হয় বিশেষ করে নারীরা।
২০০৬ সালে ড.ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংককে শান্তিতে নোবেল প্রদান করা হয় মূলত অর্থনৈতিক ক্ষুদ্রঋণের মডেলের জন্য।
তাই আমরা বলতে পারি তিনি সূদ কে হারাম জেনেও এটি সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি ইসলামের অকাট্য দলিল কে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে কুফর করেছেন।
শুধু তাই নয় ২০১৩ সালে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও সমকামীদের অধিকারের পক্ষে ড. ইউনূস স্বাক্ষর করেছিলেন। সমকামীতা হারাম এবং যারা হারাম জেনেও এটির পক্ষ নেয় তারা কুফর করলো।
শুধু তাই নয় এই ড.ইউনুস কোরআন ও ধর্মবিরোধী ড. ইউনূস সমকামিতা ও অবাধ যৌনাচারে সমর্থন করেছেন, তাই তাঁকে তওবা করতে হবে। সারাবিশ্বের মুসলমানদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এ মতবাদে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তি মুসলমান থাকতে পারে না।
পশ্চিমা বিশ্ব তথা ইহুদী চক্র ইসলামকে ধ্বংসের জন্য সুদূরপ্রসারী অংশ হিসেবে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে মুসলমানদের মাধ্যমে কিছু কুলাঙ্গার মুসলমান নামধারী নাস্তিক মুরতাদ ইহুদী দালালদের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে সমকামী মতবাদ প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় উঠেপড়ে লেগেছে। যারা এ ধরনের মতবাদে বিশ্বাস করে প্রচার করা ও সমাজে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে তারা ধর্মের উৎসকে সমূলে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত। ড.ইউনূস তাদের গংয়েরই একজন।
পবিত্র কোরআনে সুরা হুদের ভাষা অনুযায়ী,সমকামীদের বিরোধিতা না করায় আল্লাহ 'তাআলা হযরত লুত (আ) এর স্ত্রীকেও রেহাই না দিয়ে কওমে লুতের সঙ্গে ধ্বংস করেছিলেন। অতএব কোরআনের আইন অনুযায়ী যারা সমকামিতার সঙ্গে লিপ্ত, যারা এর সমর্থক এবং যারা এর বিরোধিতা করে না, তারা সকলেই অপরাধী। বাংলাদেশের পারিবারিক ও বৈবাহিক জীবনকে ধ্বংস করার জন্য নোবেল বিজয়ী ড.ইউনূসকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ড.ইউনূস সমকামিতা, পুরুষে পুরুষে এবং নারীতে নারীতে বিবাহ ও যৌনাচার এবং অবাধ যৌন সম্পর্ককে বৈধতা দিয়ে সারাবিশ্বে প্রচার ও প্রসার চালাচ্ছেন।
ড.ইউনূস গং বলছেন যে লেসবিয়ান-গে-বাইসেক্সুয়াল-ট্রান্সজেন্ডার-ইন্টারবেস (এলজিবিটিআই) জনগোষ্ঠীর বিবাহতত্ত্ব, সমকামিতা, অবাধ ও অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত এবং যারা এর বিরোধিতা করে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা সবাই ধর্মান্ধ এবং ধর্মীয় গোড়ামিতে নিমজ্জিত। এলজিবিটিআই জনগোষ্ঠীকে এসব ধর্মান্ধ ও গোড়ামিতে নিমজ্জিতদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা এ নীতি বাস্তবায়নে ধর্মীয় অনুশাসনকেই সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
★পৃথিবীর মাঝে এক বার্তা দিয়েছে ইহুদি খ্রিস্টানরা,ইউনুসের,যে সূদের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়,ইসলামী অর্থনীতি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।নাউজুবিল্লাহ...
ড.ইউনুস বিভিন্ন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে কথাগুলো খুব বেশি বলছেন তা হল, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পূর্ণ উল্টো পন্থায় তিনি গ্রামীণ ব্যাংককে গড়ে তুলেছেন। কারণ ব্যাংকগুলো শুধু ধনীদেরই আরো ধনী করে আর দরিদ্রদের দারিদ্র্য আরো বাড়িয়ে দেয়। দারিদ্র্য মানুষের সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট। এটিকে দূর করতেই হবে। দারিদ্র্যকে ভবিষ্যতে যাদুঘরে খোঁজ করতে হবে। ভবিষ্যত পৃথিবীর মানুষের মাঝে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর গ্রামীণ ব্যাংক গরিবের দুঃখের কথা চিন্তা করে বিনা জামানতে ঋণপদ্ধতি চালু করেছে,ভিক্ষুককে ঋণ দিয়েছে ইত্যাদি।
কিন্তু তিনি জানেন না?
দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামের রয়েছে সুন্দর,স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা। আল্লাহর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুফরি ও দারিদ্র্য থেকে পানাহ্ চেয়েছেন। বলা হয়েছে, “দারিদ্র্য মানুষকে কুফরির (নাস্তিক্য) নিকটবর্তী করতে পারে।” ইসলামে সম্পদের বণ্টনপ্রক্রিয়া এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে,এখানে কেউ উন্নত খাবার এবং কেউ সাধারণ খাবার পাবে এমন সুযোগ তো রয়েছে,কিন্তু সমাজের একটি দল এককভাবে সম্পদ ভোগ করে আয়েশি বিলাসী জীবন যাপন করবে এবং আরেকটি শ্রেণী চরম দারিদ্রের কষ্টে কাতরাবে এমন সুযোগ ইসলামে নেই। আশপাশের ক্ষুধার্তদেরকে না খাইয়ে একা খেয়ে ফেলে এমন মানুষকে ইসলাম মুমিন বলেই স্বীকার করে না।
সম্পদের বণ্টন বিষয়ে আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছে...
كَیْ لَا یَكُوْنَ دُوْلَةًۢ بَیْنَ الْاَغْنِیَآءِ مِنْكُمْ
অনুবাদ:"যেন তা ঘুরে ফিরে তোমাদের ধনীদের মাঝেই থেকে না যায়।”
অর্থাৎ ইসলাম একটি শ্রেণীর কাছেই ধন-দৌলত সীমাবদ্ধ থাকার কঠোর বিরোধী। এজন্যই ধনীদের সম্পদের উপর গরিবের অনেক প্রকারের অধিকার ইসলাম নিশ্চিত করেছে। এরপরও প্রয়োজনে তাদেরকে সুদবিহীন ঋণ দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। পরিত্র কুরআনে গরিবের পক্ষে মহান আল্লাহ নিজের জন্য সুদ ও মুনাফা বিহীন ঋণ (করজে হাসানা) চেয়েছেন মুমিনদের কাছে এবং এর প্রতিদান তিনি দ্বিগুণ দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অন্য জায়গায় ঋণ আদায়ে অক্ষম গরিবদেরকে কোন মুনাফা বা সুদ ছাড়াই তার সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে গরিবরা ধনীদের করুণার পাত্র নয়, বরং তাদের দারিদ্র্য দুরিভূত করা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কর্তব্য এবং তাদের কাছে এটি গরিবদের অধিকার। ইসলামী অর্থনীতি কোন সমাজে বা রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত থাকলে সেখানে কখনো কৃত্রিম দারিদ্র্য সৃষ্টি হতে পারে না। তাই সেক্ষেত্রে যাদুঘরেও এই দারিদ্র্যকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি যে ধিক্কৃত নীতির বিপরীতে ভিন্ন ধারার সৃষ্টি করেছেন তাতে সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদের অভিশপ্ত সেই সুদকেই তিনি হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর মাইক্রোক্রেডিট তথা ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রম চলে সম্পূর্ণ সুদের ভিত্তিতে। অথচ ধনী কতৃর্ক গরিবকে শোষণের বড় অস্ত্র এ সুদকে কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে কুরআন-হাদীস তথা ইসলামী শরীয়তে।
সুতরাং...গ্রামীণ ব্যাংক চালু করে বাংলাদেশের মানুষের রক্তের সাথে সূদ মিশাইয়া দেওয়ার জনক সমকামী ড.ইউনুস তার মত জঘন্য মানুষ পৃথিবীতে বিরল।
★পরিশেষে বলবো... তার পথে যারাই পা দিবে পরিশেষে ইমান হারিয়ে কুফরে নিমজ্জিত হয়ে পরিশেষে কাফের হতে হবে। সুদের সাথে কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। এই ভয়াবহতম হারাম কর্মটিকেই এখন বানিয়ে ফেলা হয়েছে অতি উপাদেয় একটি বিষয়। মতলববাজ লোকেরা সকল শ্রেণির মুসলমানদের এতে জড়ানোর জঘন্যতম কাজটি করে যাচ্ছে বিনা বাধায়।আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাকওয়া ও হেদায়েতের পথে চলার তাওফীক দান করুন আমীন।