নেত্রকোনা শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া মগড়া নদী উদ্ধারের নামে বৈধ জমির মালিকদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা এবং অপরিকল্পিত নদী খনন প্রকল্পে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নদীতীরবর্তী ভূমির মালিকেরা।
রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকালে নেত্রকোনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক বিআরএস (BRS) রেকর্ড উপেক্ষা করে কেবল সিএস (CS) নকশার অজুহাতে দীর্ঘদিনের বৈধ মালিকদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ইমন। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে পাউবোর কর্মচারীরা কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সিএস নকশা অনুযায়ী জমি পরিমাপের চেষ্টা চালান। এর প্রতিবাদে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ ছাড়া মগড়া নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করার বিষয়ে বেলা’র (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) করা একটি রিট পিটিশন বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রায় এবং বিআরএস রেকর্ড মূল্যায়ন না করে কাউকে উচ্ছেদ করার উদ্যোগ আইনসম্মত নয় বলে তাঁরা দাবি করেন।
প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মগড়া নদীর মধ্যবর্তী মাত্র ৪১ কিলোমিটার খনন করা হলে উজান ও ভাটির অবশিষ্ট ১১৪ কিলোমিটার থেকে পলি এসে খননকৃত অংশ দ্রুত পুনরায় ভরাট হয়ে যাবে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হবে। এ ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নদীর তলদেশ দেড় থেকে দুই মিটার গভীর করে খনন করা হলে সাতপাই, মোক্তারপাড়া, কাটলী ও আরামবাগ এলাকার বাড়িঘর ও স্থাপনা মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে পৌর এলাকায় নদীর দুই তীরে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সীমানা থাকলেও মাত্র ৮০০ মিটার অংশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বৈধ ভূমির মালিকদের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সব বৈধ দলিল ও রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ যৌথ জরিপ পরিচালনা, প্রকল্পের ডিপিপি (DPP) ও ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ এবং খননের কারিগরি ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।