যশোরের ঐতিহ্যবাহী ভৈরব নদকে কচুরিপানামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ডা. উষা। নদীর হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে তাঁর এই স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভৈরব নদকে দূষণমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
জানা গেছে, ভৈরব নদের কাঠের পুল থেকে দড়াটানা ব্রিজ পর্যন্ত অংশে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন ডা. উষা। এ লক্ষ্যে সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৮টায় ‘মিশন: কচুরিপানা তোলাধুনা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তিনি। কর্মসূচি সফল করতে যশোরের সচেতন নাগরিক, তরুণ সমাজ, পরিবেশপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবীদের জনবল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর আবেগঘন আহ্বানে ভৈরব নদকে ঘিরে গভীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন, কালো পানির সবুজ নদীকে পরিচ্ছন্ন করতে কিছু সাদা মনের মানুষের অপেক্ষায় থাকবেন। যারা কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করতে চান, তাঁদের কমেন্টের মাধ্যমে আগ্রহ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে সম্মিলিতভাবে কাজের সমন্বয় করা যায়।
ডা. উষার এই উদ্যোগে শিশুদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাসায় শিশু থাকলে তাদের হাত ধরে কর্মসূচিতে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘এ শহরকে ওদের বাসযোগ্য করে যাচ্ছি আমরা’—এই অঙ্গীকার আগামী প্রজন্মের নিষ্পাপ চোখে গেঁথে থাকুক। অর্থাৎ, নদী পরিষ্কারের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তাঁর এই সাহসী উদ্যোগের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের মতে, একজন মানুষ নিজের দায়িত্ববোধ থেকে নদী রক্ষায় মাঠে নেমেছেন—এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভৈরব নদকে ঘিরে এমন মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
তবে শুধু স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা পরিষ্কার করলেই ভৈরব নদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। নদীর পানি দূষণ, স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ।
এ কারণে ভৈরব নদকে দূষণমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ডা. উষার এই মহতী উদ্যোগে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ডা. উষার এই উদ্যোগ যেন শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং ভৈরব নদ রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে একদিন আবারও প্রাণ ফিরে পাক যশোরের ঐতিহ্যবাহী ভৈরব নদ।