আশা অনুযায়ী বিক্রি না হওয়ায় নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ বৈদ্যুতিক পিকআপ ‘সাইবারট্রাক’ (Cybertruck)-এর উৎপাদন বন্ধের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেসলা। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কারখানায় গাড়িটির উৎপাদন বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ চালকবিহীন ট্যাক্সি ‘সাইবারক্যাব’ (Cybercab) উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক জানান, সাইবারট্রাকের উৎপাদন কমানো হলে কারখানায় নতুন সাইবারক্যাব তৈরির সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে। তবে সাইবারট্রাক পুরোপুরি বন্ধ হবে নাকি অন্য কোনো কারখানায় স্থানান্তরিত হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
২০১৯ সালে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি অস্বাভাবিক কৌণিক নকশার সাইবারট্রাক উন্মোচন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল টেসলা। ২০২৩ সালের শেষে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় বছরে আড়াই লাখ সাইবারট্রাক বিক্রির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে গাড়িবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেলি ব্লু বুক’-এর হিসাবে ২০২৪ সালে ৩৮,৯৬৫টি বিক্রি হলেও ২০২৫ সালে তা ৪৮ শতাংশ কমে ২০,২৩৭টিতে নেমে আসে।
বিক্রি কমার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মান ও নিরাপত্তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল গাড়িটিকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, বাজারে আসার পর থেকে বিভিন্ন কারিগরি ও সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে সাইবারট্রাক ১১ বার ‘রিকল’ বা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় টেসলা। এ ছাড়া ধারালো স্টেইনলেস স্টিল বডির কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিমালার কড়াকড়িতে ইউরোপের বাজারেও অনুমোদন মেলেনি গাড়িটির।
এদিকে টেসলা এখন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সাইবারক্যাবে নজর দিচ্ছে, যাতে কোনো স্টিয়ারিং হুইল, প্যাডেল বা আয়না নেই। গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনে সীমিত পরিসরে এটি চালু হলেও পুরো প্রযুক্তিটি এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাইবারট্রাকের উৎপাদন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে টেসলা এখন কেবল সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ থেকে সরে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং স্বায়ত্তশাসিত (অটোনোমাস) পরিবহন ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব পুনর্বিন্যাস করছে।