রাজধানীর অন্যতম অভিজাত এলাকা বনানীর কঠোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে উঠেছে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক ভয়ংকর অভয়ারণ্য। পবিত্র বনানী কবরস্থানের ঠিক বিপরীত দিকে ২৭ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর ‘অবন্তি’ ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিউটি পার্লার ও সেলুনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পর্দার আড়ালে প্রকাশ্যে চালানো হচ্ছে রমরমা দেহ ও মাদক ব্যবসা। অনুসন্ধানে এই অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে সহিদ পারভেজ নামের এক ব্যক্তির নাম।

বাইরে থেকে সাধারণ একটি বিউটি পার্লার বা সেলুন মনে হলেও অনুসন্ধানী টিমের ক্যামেরায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে ঢুকলেই বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ। দিনের আলো ফুটতেই সেখানে শুরু হয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও খদ্দেরদের রহস্যজনক আনাগোনা, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সহিদ তৈরি করেছে প্রশিক্ষিত দালালের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই আস্তানার ভেতরে ইয়াবা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি মদ—সবই মিলছে হাতের নাগালে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁওয়ের একসময়ের ড্যান্সার সহিদ পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। সে সোনারগাঁও বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের পদ বাগিয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থেমে থাকেনি তার অপকর্ম। বর্তমানে সে বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতার সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে নিজের অপরাধের সাম্রাজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিজাত এলাকা ও পবিত্র কবরস্থানের সামনে এমন প্রকাশ্যে মাদক ও দেহ ব্যবসা চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাসিক এলাকায় এমন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে উঠতি যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে বলে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। অবিলম্বে এই অবৈধ আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে কুখ্যাত সহিদ ও তার পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল থাকার পরও কীভাবে তাদের নাকের ডগায় বছরের পর বছর ধরে এমন অপরাধের সাম্রাজ্য চলছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মাদকের পাশাপাশি এই আস্তানাকে কেন্দ্র করে চলছে উচ্চমূল্যের দেহব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল-কলেজপড়ুয়া উঠতি বয়সি তরুণী ও মডেলিংয়ে আগ্রহী নারীদের বিভিন্ন লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে এই অন্ধকার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

(সহিদ পারভেজের অন্ধকার জগতের আরও চাঞ্চল্যকর ও অজানা তথ্য দেখতে চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী পর্বে...)