বাংলাদেশ আজ দুভাগে বিভক্ত, একটি ‘৭২’ এবং অন্যটি ‘২৪’। ৭২ হলো বাংলাদেশে পরাজিত ও বিতাড়িত শক্তি। বিএনপি যদি ২৪-এর গলায় ছুরি চালিয়ে ৭২-এর পক্ষে দাঁড়াতে চায়, তবে আপনাদের সঙ্গেও আমাদের আচরণ ভিন্ন কিছু হবে না, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর আমীর আল্লামা মামুনুল হক।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নোয়াখালী জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, "২০১৪ সাল থেকে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮-র রাতের ভোট এবং ২০২৪-এর 'আমি আর ডামি' মার্কার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাই করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা জনগণকে বোঝাতে চেয়েছিলেন— উন্নয়ন করলেই গণতন্ত্র হয়ে যায়, ভোটের প্রয়োজন নেই।"
"দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে পদ্মা সেতু আর ঢাকার মানুষকে মেট্রোরেল দেখিয়ে বলা হয়েছিল, 'আমি যা চুরি করেছি করেছি, উন্নয়ন তো করেছি, এটাই তোদের গণতন্ত্র।' উন্নয়ন দেখিয়ে জনগণের চোখ বাঁধতে চেয়েছিল বিদায়ী সরকার।"
"আমি জানি না, বর্তমান সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার সেই ভূত নতুন করে সওয়ার হয়েছে কি না! আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরকার ঘরে ঘরে 'ফ্যামিলি কার্ড' আর ক্ষেতে-খামারে 'কৃষক কার্ড' দিয়ে কিছুদিন পর হয়তো বলবে— এটাই তোদের গণতন্ত্র। ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষক কার্ডের 'উন্নয়নের গণতন্ত্রের' ছবক দিতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ আবারও ‘জুলাই বিপ্লবের’ ছবক স্মরণ করিয়ে দেবে।"
খেলাফত যুব মজলিস দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
এছাড়াও সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। পরে রাত সাড়ে আটটায় জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বসুরহাট পৌরসভাধীন জামিয়া ইয়াকুবিয়া মাদরাসা মিলনায়তনে ইসলাহী মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ ইদ্রিস এতে সভাপতিত্ব করেন। দুর্যোগপূর্ণ প্রতিকূল আবহাওয়া ও রাত হলেও বিপুল সংখ্যক আলেম-ওলামা ও দ্বীনদার মুসল্লি মনোযোগ সহকারে তাঁর বয়ান শোনেন।
এর পরপরই আল্লামা মামুনুল হক ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ওলামা বাজার আল হোসাইনিয়া মাদরাসার ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বোখারী শরীফ হাদিসের সবক দেন। এ সময় জামেয়া ইয়াকুবিয়া মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর আবদুল গাফফার নিপু, সহ-সভাপতি মো. শরীফ মেম্বার, জয়েন্ট সেক্রেটারি সালাউদ্দিন, মাদরাসার শিক্ষকণ্ডলীসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!