অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি ডে কেয়ারে কর্মরত হামিশ টেইট নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৩৬ জন শিশুকে যৌন হয়রানির ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ৩২৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগের ধরণ: পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত হামিশ টেইটের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর: ১৩৬ জন শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ। শিশু নির্যাতনমূলক সামগ্রী তৈরির ১৬২টি অভিযোগ। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কার্যকলাপের ভিডিও ধারণের ৮১টি অভিযোগ।
১৬ বছরের অপরাধযজ্ঞ: তদন্তে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হামিশ সিডনির ৬২টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। মূলত শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তার কর্মক্ষেত্র ছিল। চারটি ডে কেয়ার সেন্টার এবং তার নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার: গত বছরের জুন মাসে হামিশের অবৈধ অনলাইন কার্যকলাপের তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর সিডনির বাইরে গ্লোসোডিয়ায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়, যেখানে শিশু নির্যাতনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। গত বছরের জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে ১২১টি ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আরও ২২ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার লিউক নিডহ্যাম এই ঘটনাকে 'মর্মান্তিক ও ভয়াবহ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "যখন দায়িত্বে থাকা কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।"
অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ায় ডে কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের একের পর এক ঘটনা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২০২৪ সালে অ্যাশলি পল গ্রিফিথ নামের এক ব্যক্তি ২০ বছর ধরে সংঘটিত ৩০৭টি অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন। এ ছাড়া গত বছর জোশুয়া ডেল ব্রাউন নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডজনখানেক শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ভিক্টোরিয়ায় ১,২০০-এর বেশি শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!