বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের ফলে সংবিধানে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হলো।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদসহ বেশ কিছু বিষয় অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। ওই রায়ে সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়। আজকের রায়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রিটকারীদের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। দলীয় সরকারের অধীনে গত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন না ঘটায় এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের আস্থা সংকটে পড়ায় এই ব্যবস্থা বাতিলকে অসাংবিধানিক বলে গণ্য করা হয়েছে।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া গণভোটের বিধান (১৪২ অনুচ্ছেদ) পুনর্বহাল করা হয়েছে। আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা বাতিল করেছেন, যা গণভোট বিলোপের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সংবিধানের ৭ক (সংবিধান বাতিল বা স্থগিতকরণ অপরাধ), ৭খ (মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্যকরণ) এবং ৪৪(২) (মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ) অনুচ্ছেদগুলো বাতিল করা হয়েছে।
আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করেননি। জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের মতো কিছু বিষয় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং বাকি বিধানগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী জনমত নিয়ে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রায়ের পর রিটকারীদের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক রায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও গণতন্ত্র রক্ষার পথ প্রশস্ত হলো।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তসহ ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আজ সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত এই রায় ঘোষণা করলেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!