ভালো-মন্দের বিচার না করে কেবল দ্রুত মুনাফার লোভে বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। অসাধু চক্রের গুজব ও কারসাজিতে দেশের শেয়ারবাজারে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যা বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত তিন মাসে অন্তত ৪১টি বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর মধ্যে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলসহ বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর ১৮৫ শতাংশ থেকে ২৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কোম্পানিতে কোনো উৎপাদন না থাকলেও কারসাজি চক্রের প্রলোভনে পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ার কিনছেন এবং পরবর্তীতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ভালো শেয়ারের অভাব এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অপ্রতুলতার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্র। বাজার স্থিতিশীল করতে ও কারসাজি রোধে বিএসইসি এরই মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে সার্কিট ব্রেকারের সীমা নির্ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। দুর্বল কোম্পানিগুলোতে সার্কিট ব্রেকারের সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, সার্কিট ব্রেকার কমানো সাময়িক নিয়ন্ত্রণ হতে পারে, কিন্তু এটি মূল সমস্যা সমাধান করবে না। কোম্পানির দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সংকটের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়।
বিআইসিএম-এর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ ও ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ বিশেষজ্ঞরা উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর লেনদেন স্থায়ীভাবে স্থগিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে তালিকাচ্যুতির কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!