রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের চলমান প্রক্রিয়া স্থগিত করে সকল লিজ চুক্তি তদন্ত ও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে 'রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ'। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই দাবি উত্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় সম্পদ পাটকলগুলো আধুনিকায়নের বদলে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে সরকার। ২০২০ সালের ২ জুলাই তৎকালীন সরকার মিলগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও চিনিকল চালুর জন্য টাস্কফোর্স গঠনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা জানান, ইতোমধ্যে ১৪টি পাটকল ৩০ বছরের জন্য বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি উৎপাদনে ফিরেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। অনেক লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যের পরিবর্তে গুদাম বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে অবকাঠামো ব্যবহার করছে।
ফলে পাটচাষি, শ্রমিক ও স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের পর অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির শঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।
মতবিনিময় সভায় পাট খাত রক্ষায় চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে: ১. চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত করে সকল লিজ চুক্তি তদন্ত ও পর্যালোচনা করা। ২. পূর্ববর্তী সরকারের লিজ প্রক্রিয়া বাতিল করা। ৩. টেক্সটাইল প্রকৌশলী, পাট বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর টাস্কফোর্স গঠন করা। ৪. ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!