দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জাতীয় বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় বাড়লেও মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, “অর্থনীতিতে কৃষির অবদান বর্তমানে ৫-৬ শতাংশের মধ্যে থাকলেও একে ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া প্রয়োজন। কারণ দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশই কৃষিকে কেন্দ্র করে।”

কৃষি খাতে উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে উত্তীর্ণ কৃষিবিদদের মেধা ও গবেষণার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ফল ও সবজি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভিয়েতনামের মতো দেশে আলুসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানির বাজার আরও বড় করতে হবে, যাতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য নষ্ট না হয়। পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামালের সীমাবদ্ধতা থাকলেও কৃষিই হতে পারে বাংলাদেশের প্রধান শিল্পভিত্তি। তাই কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।