পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চরবলইকাঠী গ্রামে ঝুপড়ি ঘরে গড়ে তোলা এক ক্ষুদ্র কারখানা এখন স্বাবলম্বিতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মো. আল আমিন (৩৫) নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা ফাইবার ও রেজিনের সংমিশ্রণে তৈরি করছেন মোটরসাইকেলের আকর্ষণীয় যন্ত্রাংশ, যা বর্তমানে জেলার সীমানা ছাড়িয়ে সাড়া ফেলেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে কর্মরত থাকা আল আমিন করোনা মহামারির সময় দেশে ফিরে বেকার হয়ে পড়েন। হাল না ছেড়ে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের সৃজনশীলতায় শুরু করেন ফাইবার দিয়ে মোটরসাইকেলের ফুয়েল ট্যাংক, সাইড কাভার, মাডগার্ড ও উইংলেট তৈরির কাজ। বর্তমান বাজারে তার এই কারখানার উৎপাদিত পার্টসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আল আমিনের তৈরি পার্টস যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী। সাধারণ নতুন পার্টস কিনতে যেখানে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে আল আমিনের পার্টস অনেক কম মূল্যে ৮-১০ বছর ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়। এমনকি পণ্যের মজবুতি প্রমাণে তিনি ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে লাফিয়েও দেখান, যা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বাইকাররা অনলাইনেও তার পণ্য অর্ডার করছেন।
বর্তমানে আল আমিনের কারখানায় দুজন কর্মচারী কাজ করছেন। তার এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেক তরুণও এই কাজ শিখছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ব্যবসাটিকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেছেন এই উদ্যোক্তা।
পটুয়াখালী বিসিক-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলমগীর সিকদার জানান, তারা ইতোমধ্যে কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখতে এবং উদ্যোক্তার সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা বা অনুদান প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একসময়ের বেকার তরুণ আজ আল আমিন উদ্যোক্তা হিসেবে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করছেন, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!