সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি চারা বিতরণের সময় জৈব সারের পরিবর্তে নিম্নমানের ময়লা-আবর্জনা সরবরাহের ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অনিয়মের কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২৪ জুন কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গাছ ও সার বিতরণের সময় স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, সরবরাহকৃত সার বস্তায় জৈব সারের বদলে ময়লা-আবর্জনা রয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হলে অনেক কৃষক সার নিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রতন চন্দ্র বর্মনকে বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে, অন্যথায় ২ জুলাই থেকে তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এদিকে বিতর্কিত সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন ওয়ান অ্যাগ্রো’-এর স্বত্বাধিকারী মো. রেজওয়ান ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ব্যাপক চাপের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে সরবরাহ করতে গিয়ে ভুলবশত কিছু ‘রিজেক্ট’ বস্তা সেখানে পাঠানো হয়েছে। তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানিয়েছিলেন, সারগুলোর বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি এবং ত্রুটিপূর্ণ সার ফেরত নিয়ে মানসম্মত সার সরবরাহের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।