প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, এই সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কারিগরি সমীক্ষা করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবারের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও দেশটির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে আরও উচ্চতর ধাপে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা মিলে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি সমীক্ষা করবে। চীন এই প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর ব্যবহার করে কুনমিং থেকে মিয়ানমারের বন্দরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে।
চীন এই সংকট সমাধানে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিয়ানমার সরকার এবং আরকান আর্মির সঙ্গে চীনের যোগাযোগ রয়েছে এবং তারা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি নতুন মেকানিজম তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা আগে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই সফরকে অত্যন্ত সফল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বন্ধুত্ব আগের চেয়ে অনেক গভীর ও বিস্তৃত।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!