পাসপোর্ট, আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি কার্ড থাকলেই তা ভারতের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই নথিগুলোকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভারতে নাগরিকত্বের একক কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র নেই। দেশটির নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় মূলত ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। এদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি বাবা-মায়ের নথি, ভোটার তালিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা বাসস্থানের প্রমাণও বিবেচনা করা হয়। যারা এই প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের জন্য সরকারের দেওয়া 'নাগরিকত্ব সনদ'ই প্রধান প্রমাণ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ফলে ভারতের পাসপোর্ট সেবার মান ও গতি বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার মাত্র ৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন নাগরিকেরা। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রগুলোতে (PSK) আবেদনকারীদের আগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না; এখন গড়ে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। গত এক দশকে ভারতে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৬ গুণ বেড়ে ৫৪৫টিতে পৌঁছেছে। চলতি বছরে আরও ২০টি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি লোকসভা আসনে অন্তত একটি করে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা।
ব্রিফিংয়ে চিপ-সংবলিত ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। গত বছরের মে মাস থেকে ইস্যু করা নতুন সব ভারতীয় পাসপোর্টে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মান অনুযায়ী নিরাপদ ইলেকট্রনিক চিপ সংযোজন করা হয়েছে। এই চিপে নাগরিকের বায়োমেট্রিক তথ্য ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা পাসপোর্ট জালিয়াতি কমাতে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয়দের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে ভারতের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের কাছে পাসপোর্ট রয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।
এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, পাসপোর্ট ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া হলেও এর প্রধান উদ্দেশ্য মূলত বিদেশে ভ্রমণ এবং সেখানে পরিচয় নিশ্চিত করা। নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট নথি রয়েছে। একই সঙ্গে তারা দেশের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় চলমান ব্যাপক সংস্কারের চিত্রও তুলে ধরেন।
পাশাপাশি, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ২৫টি আন্তর্জাতিক গতিশীলতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের ভিসা শিথিলকরণ নীতি ভারতীয়দের বিদেশ ভ্রমণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত করছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
সূত্র: এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!