নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি (এবি) ইউনিয়নের বরমহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেককে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তিনি অনলাইনে ভারতীয় বাছুর গরুর ব্যবসা ও দালালিতে ব্যস্ত থাকেন বলে জানা গেছে। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অজুহাতে প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এই শিক্ষক।

বরমহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, সহকারী শিক্ষক মওদুদ আহমেদকে দিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক নিজেই দীর্ঘদিন যাবৎ অনলাইনে ভারতীয় বাছুর গরুর ব্যবসা করাচ্ছেন। মাসের পর মাস ধরে তাদের এই সিন্ডিকেট ব্যবসা চলমান রয়েছে। বর্ডার (সীমান্ত) এলাকা থেকে পিকআপ ভ্যান যোগে বিভিন্ন জাতের বাছুর গরু কিনে এনে বাড়িতে সেগুলোর ভিডিও তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও এবং মোবাইল নম্বর (হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়।

অনলাইনে এসব ভিডিও দেখে চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্তের ক্রেতারা শিক্ষক মওদুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দামদর চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ছবি নেওয়া হয়। এরপর স্কুল ও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পিকআপ ভ্যানে ৪-৫টি গরু বোঝাই করে নিজেই ডেলিভারি দিতে চলে যান সহকারী শিক্ষক মওদুদ আহমেদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়ই তিনি গরু ডেলিভারি দিতে চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় অবস্থান করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, গরু পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটির মালিক সিরাজ আলী নামের এক ব্যক্তি। অনেক সময় মওদুদ স্যার স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় শুধু স্বাক্ষর করেই গরু বিক্রি করতে চলে যান। প্রধান শিক্ষক নিজেই তাকে এই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন।

নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার (২২ জুন) স্কুল চলাকালীন সময়ে সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে অভিযোগের সত্যতা মেলে। ওইদিন সহকারী শিক্ষক মওদুদ আহমেদ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরমহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, “উনি (মওদুদ) পারিবারিক সমস্যার কারণে আজকে ছুটিতে আছেন।” তবে গত সপ্তাহেও ওই শিক্ষক রবি, সোম ও মঙ্গলবার অনুপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকের গরুর ব্যবসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “গরুর ব্যবসা ওনার ব্যক্তিগত বিষয়, এটা স্কুলের মধ্যে বলা ঠিক না। মানুষ ব্যবসা করতেই পারে।”

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ সংবাদকর্মীদের জানান, সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।