ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ সংঘাতের পর ইরান এখন পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছে এবং তাদের আর কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা অবশিষ্ট নেই।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
পোস্টে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পক্ষে নিজের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। এর মাত্র একদিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সফর বাতিল বা বিলম্বিত করেছেন। ওই সফরে চুক্তির চূড়ান্ত ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ভ্যান্সের এই সফর পেছানোর কারণে এর স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানামুখী প্রশ্ন উঠেছে। এর ওপর লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা এই কূটনৈতিক সাফল্যকে কিছুটা হলেও ছায়ার নিচে ফেলেছিল।
তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে শুক্রবারের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের হাত আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। ডেমোক্র্যাট এবং হাতেগোনা কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কেবল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান করছে এমন দাবি সঠিক নয়; বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কৌশলগত বিজয়।
ট্রাম্প বলেন, "এই যুদ্ধ ইরানকে একদম সংকুচিত ও দুর্বল করে ফেলেছে। মার্কিন বাহিনীর একের পর এক হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং সামগ্রিক সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" বিরোধীদের টিপ্পনী কেটে তিনি আরও বলেন, "ডেমোক্র্যাটরা বলছে ইরান নাকি চার মাস আগের চেয়ে এখন ভালো অবস্থানে আছে! তাদের এমন দাবি কল্পনা করাও যায় না। মানুষ আসলে কতটা বোকা হতে পারে?"
অন্য একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরান নিজেই যুদ্ধ থামাতে এবং আলোচনায় বসতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, "ওরা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, ওরা শেষ! আমরা তাদের সঙ্গে এই আগামী ৬০ দিন ধরে খেলব। এই সময়ে তারা কোনো আর্থিক সুবিধাই পাবে না, এমনকি দশ পয়সাও না।"
সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের আলোচনা মেয়াদের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, এই ৬০ দিন মার্কিন প্রশাসন কড়া নজরদারি রাখবে। মূলত এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের মধ্যেই চুক্তির মূল অমীমাংসিত বিষয়গুলো—যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের জব্দ করা আন্তর্জাতিক সম্পদ ফেরত দেওয়া, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
সূত্র: আল জাজিরা

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!