বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার না থাকায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর এই জামিন আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ এই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালতে তাঁর পক্ষে জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট শাহিনুর ইসলাম। তিনি যেকোনো শর্তে আসামির জামিনের প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য আমলে নিয়ে জামিনের এই আদেশ দেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ডিবি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন কারাবাসের পর গত ৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওই ঋণ জালিয়াতির মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান ড. বারকাত। কিন্তু জামিন পেলেও ওইদিনই ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার।
পুলিশের করা আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল:
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঘটনার দিন বেলা ১১টা থেকে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী সমর্থক নেতৃবৃন্দকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন ড. আবুল বারকাত।
ঘটনার পর নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়, যেখানে পরবর্তীতে ড. আবুল বারকাতকেও যুক্ত করা হয়েছিল।