দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বর্তমানের ৪৯টি জেলার পাশাপাশি দেশের আরও নতুন ১০টি জেলা খুব শীঘ্রই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম, সামগ্রিক কানেক্টিভিটি এবং সেবার মান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের ৬৪ জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী চলমান ও নতুন কিছু প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন: শূন্য থাকা জেলাগুলোতে রেললাইন সম্প্রসারণ এবং সার্ভিস নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটের মিটারগেজ অংশগুলোকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে। বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম থেকে সিলেট পর্যন্ত 'মিসিং লিংক' অংশটুকু ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনতে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও তাগিদ এসেছে। ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি কনটেইনার প্রকল্প ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পের কাজও এর মধ্যে রয়েছে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে এবং পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কমিউটার ট্রেন চালুর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, ঢাকার কাছে হওয়া সত্ত্বেও মানিকগঞ্জে কোনো ট্রেন যোগাযোগ নেই। তাই ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে দ্রুত কমিউটার ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান। মূলত ঢাকার পার্শ্ববর্তী এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতেই এই রেল সেবা সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে যাওয়া ১০টি জেলা হলো— শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং লক্ষ্মীপুর। "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রেলের সামগ্রিক কানেক্টিভিটি ও সেবার মান বাড়াতে চলমান ও আগামী দিনের প্রকল্পগুলো গুরুত্বের সাথে দেখেছেন এবং তাঁর মূল্যবান মতামত যুক্ত করেছেন। বৈঠক থেকে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।"
— শেখ রবিউল আলম, রেলমন্ত্রী এর ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর এবং ঢাকা-নরসিংদীর মতো মানিকগঞ্জের মানুষও দিনে দিনে ঢাকায় এসে ব্যবসা ও দাপ্তরিক কাজ সেরে দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। এই আধুনিক কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে সরকার খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রকল্প গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন রেলমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!