সারা দুনিয়া যখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মত্ত, ঠিক তখনই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ফিফার শাস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতি টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দল ও বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যকার মারামারির ঘটনায় বাংলাদেশের ফুটবলার মিরাজুল ইসলাম এবং দলের ম্যানেজার শাহীন হাসানকে জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
জুন ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ (অলিম্পিক) দল মালদ্বীপে এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল। টুর্নামেন্টটি ফিফা স্বীকৃত ও ফিফা উইন্ডোর অধীন হওয়ায় এই ডিসিপ্লিনারি পদক্ষেপ নিয়েছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি।
টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক মালদ্বীপের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের একপর্যায়ে দুই দেশের ফুটবলাররা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মাঠে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, স্বাগতিক মালদ্বীপের ফুটবলাররা অত্যন্ত মারমুখী আচরণ করেন এবং বাংলাদেশের ফুটবলারদের গায়ে আঘাত করেন।
তবে ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে, বাংলাদেশের দুই ফুটবলার আল আমিন ও মিরাজুল ইসলামও রেফারি এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর পরিপ্রক্ষিতেই মিরাজুল ইসলাম এবং দলের ম্যানেজার শাহীন হাসানকে কয়েকশ’ সুইস ফ্রা জরিমানা করেছে ফিফা। এছাড়া ফুটবলার আল আমিনের বিষয়টিও কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সম্প্রতি ফিফার কাছ থেকে এই শাস্তির চিঠি পেয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের কোনো ফুটবলার বা কর্মকর্তা শাস্তি পেয়েছেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বাফুফে।
মালদ্বীপের মাটিতে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বাফুফে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "মালদ্বীপের বিষয়ের ওপর ফিফা আমাদেরকে একটি চিঠি দিয়েছে। আমরা পুরো ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছি ও তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেব।"
মালদ্বীপের এই ঘটনার পাশাপাশি ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত নারী সাফ অনূর্ধ্ব টুর্নামেন্টেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের আরেকটি অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার কোনো কোচ বা ফুটবলার নন, অভিযোগ উঠেছে নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর বিরুদ্ধে।
টুর্নামেন্ট চলাকালেই ম্যানেজার নওমীকে অভিযুক্ত করে বাফুফেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিল দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর সাফের ওই চিঠিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরেকটি তিন সদস্যের আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাফুফে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!