স্পেয়ার পার্টসের চরম ঘাটতি ও তীব্র জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে 'ক্যানিবালাইজেশন' বা এক অচল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ খুলে অন্যটি সচল রাখার সাময়িক পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের পাহাড়তলী ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ মেরামত কারখানা। ফলে 'কুইক ফিক্স' বা জোড়াতালি দিয়ে লাইনে পাঠানো ইঞ্জিনগুলো কিছুদিন পর আবারও একই ত্রুটি নিয়ে ফিরছে, যা রেল সংকেতে 'রিপিট ফেইলিওর'-এর চক্র তৈরি করছে।
কারখানাটিতে অনুমোদিত ৩৩০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১০ জন। দীর্ঘদিনের নিয়োগ জটিলতা, অভিজ্ঞতা হস্তান্তরহীন অবসর এবং তার সাথে আন্তর্জাতিক এলসি ও বাজেট জটিলতায় একটি যন্ত্রাংশের চাহিদাপত্র পাঠানোর পর হাতে পেতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে সময়মতো ওভারহোলিং না পেয়ে অকেজো হয়ে পড়ে থাকছে বহু লোকোমোটিভ, যার সার্বিক প্রভাব পড়ছে ট্রেনের সময়সূচি ও যাত্রীসেবায়।
তীব্র এই সংকটের মধ্যেও কারখানার সাফল্য লক্ষণীয়। গত চার অর্থবছরে পাহাড়তলী ডিজেল শপ ১৫টি মৃতপ্রায় এবং ৪টি দুর্ঘটনাকবলিতসহ মোট ১৯টি লোকোমোটিভ পুনরুজ্জীবিত করেছে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ঈদের সময়ে ৪৫ থেকে ৫৫টি লোকোমোটিভ প্রস্তুত করার কঠিন চাপ সামাল দেয় এই কারখানা। কোরিয়া থেকে আসা আধুনিক ৩০০০ সিরিজের ২২টি লোকোমোটিভের জটিল ত্রুটিও এখানে সারাই করা হয়েছে।
কাজের গতি বাড়াতে এবং জনবল সংকট সামলাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে কিছু দেশীয় অটোমেশন ব্যবস্থা (যেমন: অটোমেটিক ডায়াগনস্টিকস, পার্টস ক্লিনিং, কমপ্রেসর টেস্টিং প্ল্যান্ট) চালু করেছে। তবে কর্মব্যবস্থাপক (ডিজেল) প্রকৌশলী এতেশাম মো. শফিক জানান, অটোমেশন সাময়িক সমাধান দিলেও সঠিক সময়ে মানসম্মত স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ এবং শূন্য পদে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ না দিলে পাহাড়তলী ডিজেল শপের সক্ষমতা টেকসই করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!