কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর মোহনা থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সাত বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী।

ইউএনও জানান, কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাতজন জেলেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, "জেলেরা ভুলবশত মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।"

শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, ২-বিজিবির অধীনস্থ শাহপরীর দ্বীপ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার কাছ থেকে জেলেদের আটক করা হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার বোট নিয়ে সাগরে গিয়েছিলেন তারা। মাছ ধরে ফেরার পথে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে আরাকান আর্মির সদস্যরা বোটসহ তাদের অবরুদ্ধ করে ধরে নিয়ে যায়। আটক হওয়া দুটি মাছ ধরার বোটের মালিক শাহপরীর দ্বীপের কোনাপাড়া এলাকার মো. রাজ্জাক (৪০)।

ধরে নিয়ে যাওয়া সাত জেলে সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন: ১. ফয়সাল (২৬) ২. জলিল (১৬) ৩. আজম (১২) ৪. হেলাল (১১) ৫. লালয়া (১৯) ৬. সৈয়দ আলম (২১) ৭. ফয়সাল (২২)

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি জেলেরা প্রায়ই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হয়রানি ও আটকের শিকার হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটক জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।