মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বস্তি ছড়ানো এই চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। এই সমঝোতার খবরের পর থেকেই বিশ্ববাজারে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।
উভয় পক্ষ জানিয়েছে, বিরোধের আরও জটিল বিষয়গুলো—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আগামী ৬০ দিন ধরে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাবে।
রয়টার্সের সূত্র ধরে চুক্তির মূল বিষয়গুলো এবং এরপর কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী শুক্রবার (সমঝোতা স্মারক সইয়ের দিন) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, চুক্তি সইয়ের পর প্রণালিটি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত হবে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের মাধ্যমে এই প্রণালির সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ। পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার বিষয়ে ইরান সম্মত হয়েছে, যা তেহরান দীর্ঘকাল ধরেই দাবি করে আসছে।
কার্যক্রম স্থগিত: চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণের কাজ স্থগিত রাখবে।ইউরেনিয়াম মজুত: ভবিষ্যৎ পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় ইরান দেশের ভেতরের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তরলীকৃত করতে পারবে বলে ওয়াশিংটন রাজি হয়েছে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত এগুলো সরানোর তাড়া নেই।
পরিদর্শন ব্যবস্থা: চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, চূড়ান্ত যেকোনো চুক্তিকে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল: নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে এবং পরে জাতিসংঘ ও মার্কিন সব নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে।
জব্দ সম্পদ ও পুনর্গঠন: ইরানের জব্দ থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তা। যদিও ট্রাম্প বলেছেন কোনো সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, তবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এছাড়া আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) রাত থেকেই লেবাননসহ সব জায়গায় স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের রূপরেখা চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জোর দিয়ে বলেছেন, লেবাননে আর কোনো ইসরায়েলি হামলা কিংবা ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর হামলা চালানো উচিত হবে না। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ কিছুটা ভিন্ন সুর মিলিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবানন, সিরিয়া এবং গাজায় তাদের দখল করা নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করবে এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!