সব বৈধ কাগজপত্র ও ভিসা থাকার পরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বলি হয়ে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন ভেঙেছিল সোমালিয়ান রেফারি ওমর আব্দুল্লাহ আর্টানের। আমেরিকার মাটি থেকে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলেও, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাকে যথাযথ সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও পুরো বেতন ও আর্থিক সুবিধা পাবেন আফ্রিকার এই সেরা রেফারি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমরের ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার বিষয়টি চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু মাঠের বাঁশি মুখে নেওয়ার আগেই তাকে পড়তে হয় মার্কিন প্রশাসনের কঠোর বেড়াজালে। তবে এতে ওমরের কোনো ব্যক্তিগত ত্রুটি বা দোষ না থাকায়, ফিফা তার চুক্তিভিত্তিক পুরো অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বকাপ সমাপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি এই অর্থ পেয়ে যাবেন।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে মায়ামি বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার পরপরই ওমরের ওপর চড়াও হয় মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এই চরম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রসঙ্গে ওমর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন:
"আমার কাছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ভিসাসহ সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ছিল। আমি একজন পেশাদার রেফারি। বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, যা চোখের সামনে ধুলিসাৎ হয়ে গেল।"
আমেরিকার এমন সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফাও। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, ওমরের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু আয়োজক দেশের অভ্যন্তরীণ আইন বা নিয়ম পরিবর্তন করার ক্ষমতা ফিফার নেই।
এদিকে শূন্য হাতে দেশে ফিরলেও সোমালিয়ায় বীরের মর্যাদা পেয়েছেন ওমর আব্দুল্লাহ আর্টান। সোমালি সরকার ও সাধারণ জনগণ তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এবং পরবর্তীতে একটি স্টেডিয়ামে জমকালো সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করা হয়। মাঠে নামতে না পারলেও, ফিফার এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ফুটবল বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।








মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!