কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অসংক্রামক রোগের বোঝা কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগজনিত এবং এসব রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক তামাকের ব্যবহার। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অধিকতর সংশোধন করে শক্তিশালী আকারে ২০২৬ সালে পাস করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ (দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন) অকালে মারা যান এবং এর ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাক চাষের কারণে বন উজাড় ও মাটির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এ ই-সিগারেটকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তামাক কোম্পানিগুলোর নতুন কৌশলের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে ই-সিগারেটসহ সব নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে এই আইনের দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।