নাটোরে লিজ নেওয়া জমির বিরোধের জেরে মোহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরি গ্রামে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহিরুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত গোফুর মণ্ডলের ছেলে এবং অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমানের আপন চাচাতো ভাই। জিল্লুর রহমান বিয়াঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কার্তিক মাসে এক বছরের জন্য স্থানীয় বুলবুল নামের এক ব্যক্তির জমি লিজ নেন মোহিরুল ইসলাম। বর্তমানে সেই জমিতে তিনি পাট বুনেছেন। চুক্তিমতে পাটের পর ধান চাষ শেষে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে পাট কাটার পর পরই জমিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য মোহিরুলকে চাপ দিয়ে আসছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান। এই নিয়ে গত মঙ্গলবার স্থানীয় একটি চা-স্টলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিল্লুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মোহিরুলের গায়ে হাত তোলেন। এ সময় মোহিরুলের বড় ছেলে তানভীর প্রতিবাদ করলে তার ওপরও চড়াও হন তিনি। পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় সে যাত্রায় বিরোধের অবসান ঘটে। ভুক্তভোগী মোহিরুল ইসলামের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতের ঘটনা শেষে জিল্লুর রহমান তাঁকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেন। প্রাণভয়ে রাতে তিনি সপরিবারে ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করেন। আজ বুধবার সকালে তিনি বাড়ি ফিরলে, জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে মোজামসহ ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। হামলার খবর পেয়ে মোহিরুল ও তাঁর পরিবার আবারও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে জিল্লুর রহমান ও তাঁর লোকজন পুরো ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে তছনছ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জিল্লুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। তাঁর ভয়ে গ্রামের সাধারণ ও নিরীহ মানুষ তটস্থ থাকে। মোহিরুল একজন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ, তাঁর ওপর যে অন্যায় ও অত্যাচার করা হয়েছে—আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।" কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী মোহিরুল ইসলাম বলেন, "আমি ভাবতেই পারিনি যে আমার আপন চাচাতো ভাই সামান্য জমির জন্য আমার সাথে এমন আচরণ করবে। সে আমার গায়ে হাত তুলেছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।" এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, "জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!