রাজধানীর ব্যস্ততম উত্তরার দক্ষিণখান থানা এলাকায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি চুরির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটে। আকস্মিক এই জোড়া খুনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি এলাকার অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ জামতলা এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন নারী চিকিৎসক সারা রোকসানা পিনু।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে—বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে দক্ষিণখানের গাওয়াইর প্রেমবাগান এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহবুব আরা বেগম (পিতা: হারুনর রশীদ হাওলাদার)।
মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দক্ষিণখানজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান ও তুরাগ এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেই তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। চিকিৎসক সারা রোকসানা পিনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জোরালোভাবে কাজ চলছে।
ঘটনার দিন সকালে তার স্বামী মোহাম্মদ সোহেল কর্মস্থলে এবং ছোট মেয়ে স্কুলে চলে যান। বিকেলে স্কুল থেকে ফোন পেয়ে স্বামী সোহেল বাসায় ফিরে দেখেন, মুখের ওপর বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে স্ত্রীর নিথর দেহ।
নিহতের পরিবারের দাবি, পাশের কক্ষের জানালার গ্রিল কাটা ছিল। বাসা থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের ধারণা, চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের নাতি আবু তালহা সজিবের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাতি সজিবকে গ্রেপ্তার করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল নেই এবং অনেক সড়কে পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। এভাবে চলতে থাকলে অপরাধপ্রবণতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, জোড়া খুনের এই ঘটনাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!