ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধারাবাহিক কর্মসূচির মুখে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর পার্লামেন্টে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি বাড়ানোর একটি বিল পাস হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড দ্বিগুণ করে ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি করা হয়েছে।
আইনটি একদিন আগেই ভারতের নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে। এরপর এটি নিয়ে উচ্চকক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিতর্কের পর কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে প্রত্যেক বাবা-মা, প্রত্যেক পরিবার এবং প্রকৃতপক্ষে এই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের স্বার্থ জড়িত। কারণ এই শিশুরাই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে স্বাক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা কঠোরতর শাস্তির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
ফাঁস হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের পর সংসদে বিলটি অনুমোদিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।
অনলাইনভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ বিক্ষোভ দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। ফলে বিষয়টি মোদি সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সরকারের বারবার কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও ভারতে জাতীয় ও রাজ্য উভয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিয়মিত সমস্যা হয়েই চলেছে।
মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে একটি জাতীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক বিক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এর ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটে।
সূত্র: আল জাজিরা

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!