টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি মৌলিক সেবায় তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ‘সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দলিত নারী ও কিশোরীদের অধিকার সুরক্ষা এবং মৌলিক পরিষেবায় অভিগম্যতা বৃদ্ধিতে সহায়তা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে নাগরিক উদ্যোগ, বাস্তবায়ন সহযোগিতায় আচিক মিচিক সোসাইটি এবং অর্থায়নে ফাউন্ডেশন ফর আ জাস্ট সোসাইটি (এফজেএস)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও নাগরিক উদ্যোগের মধুপুর প্রকল্প কার্যালয়ের সমন্বয়কারী সুলেখা ম্রং।
তিনি বলেন, প্রান্তিক নারী ও কিশোরীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি বিভিন্ন সেবায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরে প্রকল্প কর্মকর্তা ন্যান্সি নকরেক সভার ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শহিদুজ্জামান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠকর্মী ঝর্ণা হাগিদক ও সুবোধ বর্মন, ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য লোকাশ রেমা ও খোকন বর্মন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারী এবং কিশোরীরা এখনও নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। প্রধান অতিথি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেবা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি যোগ্য সুবিধাভোগীদের সরকারি সেবার আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রান্তিক আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারী ও কিশোরীরা অংশ নেন। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।