জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিধি বাড়াতে আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বিষয়টি আপাতত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের ওপর হামলা চালানোর পর পাকিস্তান ইরানকে বার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তান নিজেদের ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করবে।
এদিকে কুয়েতের সঙ্গে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কুয়েতের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, কুয়েত এখন ইসলামাবাদের কাছ থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তির মতো একটি নিরাপত্তা কাঠামো চায়। এতে স্থলে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, কুয়েতের চাহিদার তালিকায় সবকিছুই রয়েছে। তবে এই পর্যায়ে পাকিস্তান সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে না এবং তা ভাবারও সুযোগ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্র জানিয়েছে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে এটি সরাসরি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পরিণত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এসব বিষয়ে রয়টার্স পাকিস্তানের চারটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কেউই নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং এবং কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কেউই মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সূত্র: রয়টার্স