জালিয়াতির মাধ্যমে কাগুজে রপ্তানি দেখিয়ে ‘ইয়েলো অ্যাপারেলস’ নামে জনতা ব্যাংক থেকে ৪১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্তে জনতা ব্যাংকের ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন একটি টিম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুল আলম, মোসাম্মৎ আছিয়া বেগম, আব্দুল মতিন, মিজানুর রহমান, এস এম আব্দুল ওয়াহাব, ফয়জুল আলম, গোলাম মর্তুজা, কামরুল আহসান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দায়ের করা এ মামলায় মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ভাই এস এফ রহমান, তাদের দুই ছেলে এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসে ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তারা ভুয়া এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যেই কাগুজে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করেন। এর মাধ্যমে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিগত ১৫ বছরে দেশের আর্থিক খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে। তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলায়নরত অবস্থায় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।