স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ প্রক্রিয়াকে টেকসই ও মসৃণ করতে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।
গ্রুপটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং দোহা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উত্তরণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ ড. তিতুমীর বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এলডিসিগুলোর উত্তরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, রাজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক সহায়তার ঘাটতি উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত সময় কোনো বাড়তি সুবিধা নয়, বরং এটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলগত প্রয়োজন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও নেপালসহ উত্তরণ প্রক্রিয়ায় থাকা দেশগুলো তাদের প্রস্তুতি পর্ব ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে।
পাঁচ অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব আগামী বছর দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার আগে এলডিসি গ্রুপ পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে:
১. সহজ শর্তে অর্থায়ন: ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। ২. আর্থিক কাঠামোর সংস্কার: আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সংস্কার এনে এলডিসিগুলোর জন্য ঋণ পরিশোধে সুবিধা প্রদান এবং ন্যায্য অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৩. সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন: অভিযোজন, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিলের জন্য দ্রুত ও পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করা। ৪. বাজার প্রবেশাধিকার: আন্তর্জাতিক বাজারে সুরক্ষাবাদী প্রবণতা কমিয়ে উন্নয়নবান্ধব 'রুলস অব অরিজিন' নিশ্চিত করা। ৫. প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর: প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে উদ্ভাবনী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া।
বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে একটি 'মোড় পরিবর্তনের সুযোগ' হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং কাউকে পেছনে না রেখে উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈশ্বিক সংহতি প্রদর্শনের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান।