ভারতের মেঘালয়, আসাম, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গসহ উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে তিস্তা, দুধকুমার ও সোমেশ্বরী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা নদীর ছাতক স্টেশন এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারার পানি সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এ নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সতর্ক সীমায় পৌঁছেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহের সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে শেরপুর, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমছে, যার ফলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানি বাড়লেও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উপকূলীয় নদীগুলোতে আগামী তিন দিন স্বাভাবিক জোয়ার বজায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।