ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আইনসভা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে তিনি আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

যদি এই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এটি হবে ২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনিদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম—ফিলিস্তিনের এই সবকটি ভূখণ্ডে একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাম্প্রতিক নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের (PLC) আসন সংখ্যা ১৩২ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করা হয়েছে। প্রার্থীদের বয়সসীমা ২৮ থেকে কমিয়ে ২৩ বছর করা হয়েছে এবং প্রতিটি নির্বাচনী তালিকায় অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী থ্রেশহোল্ড ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহল এবং ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্বাচন আয়োজনের পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

২০০১ সালের মতো এবারও পূর্ব জেরুজালেমে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অনুমতি পাওয়া একটি বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।  চলমান সংঘাতের কারণে গাজার ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং অধিকাংশ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত। এহেন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী আয়োজন করা অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং। ফাতাহ ও হামাসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন এবং নতুন নির্বাচনী আইনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত মাসে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী বছরের শুরুর দিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি নিজে নির্বাচনে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করেননি। আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে আসছিল।