২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাশ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এই বাজেট পাশ হয়। আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন এই বাজেট কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বাজেটের মূল লক্ষ্য ও শিরোনাম অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। এবারের বাজেটের শিরোনাম রাখা হয়েছে—‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
অর্থবিলের সংশোধনী ও প্রধান পরিবর্তনসমূহ বাজেট পাশের আগে সোমবার (২৯ জুন) অর্থবিল সংশোধনসহ পাশ করা হয়। এতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, করমুক্ত আয়সীমা: করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কালো টাকা: আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের বিতর্কিত সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। করপোরেট কর: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ওপর করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। খুচরা ব্যবসা: খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয়: ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা (বিদায়ী বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি)। পরিচালন ব্যয়: ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা (বিদায়ী বছরের তুলনায় ৬.৭ শতাংশ বেশি)। ঋণ ও বেতন: সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ঘাটতি পূরণ নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার।
বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।