জাতীয় সংসদে নানামুখী আলোচনা, সমালোচনা ও একাধিক সংশোধনের পর আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা পাস হয়।
বিলটি পাসের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বাজেটের বিশাল ঘাটতি, কর ও ভ্যাটের বোঝা, ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বিলটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
বাজেট পাসের পর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বর্তমান সরকার একটি চরম দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী।” তিনি জানান, সরকার এখন থেকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক ও অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩৮.৬১%)। পূর্ববর্তী সরকারের অপরিকল্পিত ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৩৩.৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে (চলতি বছরে যা ২৭.২৭ শতাংশ)। করের হার না বাড়িয়ে বরং আওতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা আনতে করনীতি ও প্রশাসনকে পৃথক করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে এনবিআরের কর আদায় প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকার এরই মধ্যে ১১টি মামলায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকঋণ নির্ভরতা কমাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।